দশমীর রাতে প্রকাশ্যে বিবাদ চলেছিল। সেই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ছোট ছুরি দিয়ে আঘাতও করা হয়েছিল! হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। পাঁচদিনের লড়াইয়ে জীবনযুদ্ধে পরাস্ত হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির বিজেপি কর্মী দেবাশিস পাল। অভিযোগ, বিজয়া দশমীর দিন ডোঙারিয়া স্কুলমোড়ে সর্বজনীন পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। সেসময় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিজেপির বজবজ ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতির ঘনিষ্ঠ দুই বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দু’দলের বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি থানার ডোঙারিয়া পালপাড়া স্কুলমোড়ে। অভিযোগ, বিজয়া দশমীর দিন রাতে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন চলাকালীন বজবজ ২ নম্বর ব্লকের ডোঙারিয়া স্কুলমোড়ের সর্বজনীন পুজো কমিটির সদস্য দেবাশিস পালকে ওই পুজো কমিটিরই অপরপক্ষ মারধর করে। ছোট ছুরি পেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়! রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
দেবাশিসের স্ত্রী সহেলি পাল এই ঘটনায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শুভঙ্কর অধিকারী, ঋজু অধিকারী ও দেবা অধিকারী-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ভিত্তিতে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেও অভিযোগ উঠছে। অভিযুক্তরা বিজেপির বজবজ ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শুভঙ্কর অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। যদিও বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শুভঙ্কর অধিকারী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এদিকে ধৃত দু’জনকে সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে ঋজুকে জেল হেফাজতে ও দেবাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মৃত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী সহেলি পাল বলেন, “দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি, সকলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।”