হুঁশিয়ারিই সার! টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তদের সঙ্গে দল ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী (Kaustav Bagchi)। কিন্তু তারপরেও বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান বিজেপি কর্মীরা। এপ্রসঙ্গে কৌস্তভ বাগচী জানান, “ভগবান এঁদের ক্ষমা করুন। এঁরা জানেন না কী করছেন।” তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি দল বিরোধী নন। দল যদি তাঁর জন্য বিড়ম্বনা বা অস্বস্তিতে পড়ে তাহলে তিনি ইস্তফা দেবেন।
সম্প্রতি টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্ত বারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপির মঞ্চে দেখা যায়। এরপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কৌস্তভ জানান, উত্তম ও প্রশান্ত বিজেপিতে নাম লেখালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করবেন তিনি। তাঁর কথায়,, “আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। উত্তম ও প্রশান্তকে বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। দরকারে বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে কেরোসিন তেল ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব।” নাম না করলেও এসবের পিছনে বিজেপির আর এক বিধায়ক অর্জুন সিং রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেন কৌস্তভ।
কৌস্তভের হুঁশিয়ারির পরেও উত্তম দাসের বাড়িতে বিজয়া করতে যান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। মিষ্টি খাইয়ে তৃণমূল নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করেন বিজেপি কর্মীরা। যদিও দুপক্ষই জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। এর মধ্যে রাজনীতি নেই। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, উত্তম দাসের বিজেপিতে যোগদান শুধু সময়ের অপেক্ষা।
কৌস্তভের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিজেপিতে কে আসবে তা পার্টির অথরিটি ঠিক করবে। সবার এই নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই। ওঁ (কৌস্তভ) ওঁর মতো বলেছেন। উনি নিজেও তো কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসেছে। উনি আসতে পারলে অন্যরাও আসতে পারেন।” অন্যদিকে অর্জুন সিং বলেন, “আমি জানি কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।”
উত্তম দাসের বাড়িতে বিজেপি নেতাকর্মীদের বিজয়া করতে যাওয়া নিয়ে কৌস্তভ বুধবার বলেন, “ভগবান এঁদের ক্ষমা করে দিও। এঁরা বাড়ির লোকের সামনে দাঁড়াতে পারবেন?” বারাকপুরের বিধায়ক স্পষ্ট করে দেন, তিনি দলের বিরুদ্ধে নন। দল তাঁর জন্য বিড়ম্বনায়, অস্বস্তিতে পড়লে তিনি ইস্তফা দেবেন। তাঁর কথায়, “দলকে কখনও বিড়ম্বনায় ফেলব না। আমার জন্য দল বিড়ম্বনায় পড়লে ইস্তফা দেব। কারণ আমি ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ। কারও কারও নির্দেশে এসব হচ্ছে। যা হচ্ছে ভালো হচ্ছে না। কয়েকদিন পরে নিজেরাই নিজেদের মুখ আয়নায় দেখতে পারবে না।”
