শরীর দিব্যি ভালো। কাজকর্মেও কোনও অসুবিধা নেই, মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যাও হচ্ছে না। তা হলে রক্তচাপ নিয়ে চিন্তা কীসের? এই ধারণাই ডেকে আনতে পারে বিপদ। কারণ, উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অনেকের শরীরে বছরের পর বছর কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। অথচ ভিতরে ভিতরে ক্ষতি হতে থাকে রক্তনালির। বাড়তে পারে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ ও কিডনির সমস্যার আশঙ্কা। তাই শরীরের অস্বস্তির অপেক্ষা না করে নিয়মিত রক্তচাপ মাপাই সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।
উপসর্গ না থাকাই বড় সমস্যা
ধমনির দেওয়ালে রক্তের চাপ দীর্ঘদিন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। এই অতিরিক্ত চাপ ক্রমশ রক্তনালির ভিতরের আবরণের ক্ষতি করতে পারে। ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালিও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ কখনও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে দেখা গেলেও এগুলি নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। আবার রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গেলেও অনেকের কোনও অসুবিধা হয় না। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় বা অন্য কোনও সমস্যার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আচমকা উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে।

উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্ট্রোক কেন?
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। উচ্চ রক্তচাপ দু’ভাবেই এই আশঙ্কা বাড়ায়।
দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে ধমনি সরু হয়ে যেতে পারে বা রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে হয় ইসকিমিক স্ট্রোক। অন্য দিকে, অতিরিক্ত চাপের কারণে মস্তিষ্কের দুর্বল রক্তনালি ফেটে গেলে ঘটে হেমারেজিক স্ট্রোক। দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের ছোট রক্তনালির ক্ষতি করে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও চলাফেরার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
কমবয়সিরাও বাদ নন
বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়লেও কমবয়সিরাও এই সমস্যার বাইরে নন। অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব, খাবারে বেশি নুন, অপর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়াতে পারে। পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি। কিডনির অসুখ এবং ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

নিয়মিত মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন
রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। পা মেঝেতে সমান ভাবে রাখুন এবং হাত বুকের উচ্চতায় রাখুন। মাপার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ধূমপান, চা-কফি ও শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন। একবার রক্তচাপ বেশি এলেই আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বারবার মাপুন। নিয়মিত বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারে নুন কমানো, শাকসবজি ও ফল খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসক ওষুধ দিলে উপসর্গ না থাকলেও তা নিয়মিত খেতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক।
মনে রাখবেন, হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তিতে আকস্মিক পরিবর্তন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে অপেক্ষা না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। শরীর ভালো লাগছে কি না, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, সেটি জানা।
