সাইবার প্রতারণায় মদত দেওয়ার অভিযোগে নদিয়ার তেহট্ট থেকে ডেপুটি ম্যানেজার-সহ গ্রেপ্তার ব্যাঙ্কের ৮ কর্মী। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের লোভে সাইবার অপরাধীদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার চক্রে এবার সরাসরি ব্যাঙ্কের অন্দরের যোগসাজশ ফাঁস করল পুলিশ। সাইবার প্রতারকদের সহযোগিতার অভিযোগে তেহট্ট মহকুমায় এক ডেপুটি ম্যানেজার-সহ ব্যাঙ্কের মোট ৮ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার বিকেল থেকে তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য পায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের তেহট্ট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যাঙ্ককর্মীরা হলেন সমরজিৎ প্রামাণিক, জয়দেব দুর্লভ, তরুণ বিশ্বাস, প্রদীপ সরকার, পলাশ মণ্ডল, দেবাশিস দালাল, বিষ্ণুদেব মণ্ডল ও দয়াময় রায়। প্রত্যেকেই এলাকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মী।
তদন্তকারী অফিসার মহম্মদ আজহারউদ্দিনের নেতৃত্বে চলা এই অভিযানে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া কালো টাকা সাদা করতে এবং লেনদেনের উৎস আড়াল করতে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হত। ২-৩ শতাংশ কমিশনের লোভে কিছু যুবক-যুবতী নিজেদের অ্যাকাউন্ট অপরাধীদের হাতে তুলে দিত। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেতাই ও নাজিরপুরের ওই ব্যাঙ্ক কর্মীরা সরাসরি যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত ব্যাঙ্ককর্মীরা তরুণদের সহজেই অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধান করা এবং অ্যাকাউন্ট ভাড়ার দেওয়ার বিষয়ে যুবকদের সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের যোগাযোগ করিয়ে দিতে মধ্যস্থতার কাজ করতেন। এর বিনিময়ে তাঁরাও মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন। ধৃতদের মোবাইল ফোন ও ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য ঘেঁটে এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের এই চক্রে জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই তেহট্ট মহকুমায় সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগে তিন দিনে প্রায় ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, বুধবার পর্যন্ত শুধু তেহট্ট থানা এলাকাতেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কোনও চক্রীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মূল পাণ্ডাদেরও শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।