কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে প্রার্থী নিয়ে যাতে দলের মধ্যে কোনও ক্ষোভ না থাকে তা আগেভাগে দেখে নিতে নয়া কৌশল নিল বিজেপি। গোপনে নিচুতলার নেতাদের মতামত নিয়ে তাদের থেকেই প্রার্থীদের নামের তালিকা নেওয়া হবে। আর তার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক রাজ্য নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দিল দল। কোনও ওয়ার্ডে যাতে উপর থেকে প্রার্থীদের নাম চাপিয়ে দিলে নিচুতলায় তা নিয়ে যাতে ক্ষোভ দানা না বাঁধে সেক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা নিল রাজ্য বিজেপি।
কলকাতা ও হাওড়া শহরের প্রতিটা মণ্ডল পিছু একজন করে রাজ্য নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা মণ্ডলে ৫ থেকে ৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেই ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নাম বা কাদের প্রার্থী করা উচিত সেই সম্পর্কে সেখানকার নেতাদের মতামত গোপনে নেবেন সেই মণ্ডলের দায়িত্বপ্রাপ্তরাজ্য নেতারা। তারপর সেই মতো প্রার্থীদের নামের তালিকা সেই জেলার সভাপতি এবং কলকাতা ও হাওড়ার পুর ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার ও রাহুল সিনহাকে দেবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য নেতারা। তারপর দলের রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর তালিকা চূড়ান্ত হবে। সম্প্রতি বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল দলীয় বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছিলেন একক সিদ্ধান্তে প্রার্থী বাছাই হবে না।
সেই মতোই প্রার্থী বাছাইয়ে দলের নিচুতলা থেকে উঁচুতলা পর্যন্ত মতামত নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে দলীয়স্তরে। এক্ষেত্রে, কোনও নির্দিষ্ট কাউকে প্রার্থী করার জন্য এলাকার বিধায়কের সুপারিশও মানা হবে না বলে দলের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, পুরভোটে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে এখনও কিছুটা ধন্দে বিজেপি। দলের মধ্যেও রয়েছে দুরকম মত। চর্চায় রয়েছে, কলকাতা পুরভোটে তৃণমূলের ২২জন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে টিকিট দিতে পারে বিজেপি। একদিকে তাদের টিকিট দিলে লাভ কতটা হতে পারে সেটা আলোচনার পাশাপাশি উল্টেদিকটাও অর্থাৎ দলের ক্ষতি হবে কি না সেটাও ভাবতে হচ্ছে পদ্মশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে।
