জাল ডিসিআর দুর্নীতি মামলায় তদন্তের আঁচ এবার বীরভূমের ভূমি দপ্তরের প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিক রবিউল ইসলামের কাছে। রবিবার রাতে কলকাতার বেহালায় ছেলের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাঁকে সিউড়ি এসিজেএম আদালতে বিচারক অরিজিৎ মণ্ডলের এজলাসে পেশ করার পর এই মামলায় তৎকালীন জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজের সিদ্ধান্তে নয়, তৎকালীন জেলাশাসক এবং ভূমি দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসকদের নির্দেশেই তিনি কাজ করেছিলেন। ফলে কয়েক হাজার কোটি টাকার এ ই দুর্নীতির তদন্তে এবার প্রশাসনের শীর্ষস্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আদালতে রবিউল দাবি করেন, তাঁর এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশই অনুসরণ করেছেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনেও একই অভিযোগ করেন ওই প্রাক্তন আধিকারিক। তাঁর দাবি, যে সময়কাল জুড়ে এই দুর্নীতি হয়েছে সেই সময়কালে বীরভূমের জেলাশাসকের দায়িত্বে থাকা প্রত্যকে আধিকারিক জাল ডিসিআর সংক্রান্ত কারবারের অন্যতম মূল চক্রী। পাশাপাশি তৎকালীন ভূমি দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসকের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “এই আধিকারিকদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা আসলে একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।”
জেলা পুলিশের তদন্তে এর আগে একাধিক সরকারি কর্মী ও আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। সিউড়ি এসডিএলএলআরও দপ্তরের হেড ক্লার্ক প্রবীর দাসকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সূত্র ধরে মহম্মদবাজারের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্ক বিশ্বজিৎ সাহার খোঁজ পান তদন্তকারীরা। বিশ্বজিৎকে গ্রেপ্তারের পর মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলএলআরও সব্যসাচী মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার সেই সব্যসাচীর বয়ান অনুযায়ীই রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে যেভাবে একে একে সরকারি দফতরের নীচু স্তর থেকে উপরের দিকে পুলিশের তদন্তের জাল উঠে আসছে, তাতে আগামীতে কার নাম আসবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে সিউড়ির এসডিএলএলআরও পদে ছিলেন রবিউল। পরে অবসরের পর তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তাঁকে ডেপুটি ডিএলএলআরও পদে বসানো হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তখন দেউচা-পাঁচামির প্রস্তাবিত কয়লাখনির রূপায়ণের জন্যই তাঁকে এই পদে বসানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। রবিউলেরও দাবি, তিনি এই তদন্তে প্রথম দিন থেকেই সবরকম সহযোগিতা করছেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হল, তা তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় ইতিমধ্যেই ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল জেলা পুলিশ। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, নকল ডিসিআরের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। মামলার মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছিল। এ দিন নতুন করে মামলাউ দ্বাদশ অভিযুক্ত হিসাবে রবিউলের নাম যুক্ত হল। একদিন আদালত থেকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এরপর রবিউলের বক্তব্যের সূত্র ধরে তৎকালীন প্রশাসনের আরও কারও ভূমিকা সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
