বয়স বাড়লেও ভারতকে জেতানোর ক্ষমতা যে এতটুকু কমেনি, আরও একবার তা প্রমাণ করলেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের জয়ে ‘রো-কো’র অবদান অনেকটাই। সেকথাই ম্যাচের পর বলছেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর মতে, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন হিটম্যান। আর কোহলির ব্যাটেই আসে জয়।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক, তা বোঝা গেল সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে। শুরু থেকেই আগুনে গতিতে বল করতে থাকেন অর্শদীপ সিং ও গুর্নুর ব্রার। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকেন কিউয়িরা। ভারতীয় বোলারদের ‘শাসনে’ ১৮৫ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সেই রান ৫ উইকেটে তুলে নেয় গম্ভীর বাহিনী। দলের বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন শুভমান। বিশেষ করে রোহিতের দুরন্ত রান আউটের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমাদের বোলিং ও ফিল্ডিং ভালো হয়েছে। রোহিত ভাইয়ের রান আউটই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই সময় মিচেল ও ফিলিপ্সের মধ্যে ভালো জুটি তৈরি হচ্ছিল। ওদের জুটি আরও এগোলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারত। কিন্তু রোহিত ভাই রান আউট করে খেলার ছবিটাই পালটে দেয়।”

নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপ্স, দু’জনেই ভারতের বিরুদ্ধে বরাবর ভালো খেলেছেন। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিযেও তাঁদের ব্যাটে রান এসেছে। এই ম্যাচেও দু’জনের জুটি জমে গেলে ভারতের সামনে বড় লক্ষ্য অপেক্ষা করতে পারত। কিন্তু ২৮ রানের মাথায় মিচেলকে রান আউট করেন হিটম্যান। ওটাই টার্নিং পয়েন্ট। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট শুভমন। অর্শদীপ সিং ৪ উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ৭০। অন্যদিকে, অংশুল কম্বোজ ও গুর্নুর ব্রার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রানও কম দিয়েছেন। কম্বোজ ২২ রান দিয়ে দু’টি এবং ব্রার ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। দুই তরুণ পেসারের প্রশংসা করে গিলের সংযোজন, “এই ধরনের পরিবেশ কম্বোজের বোলিংয়ের জন্য আদর্শ। নতুন ও পুরনো, দুই বলেই ও সুইং করাতে পারে। ব্রার পিচ থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেয়। এই পিচে দু’জনেই অসাধারণ বল করেছে।”
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই রোহিতের উইকেট হারায় ভারত। কিন্তু তাতে চাপ বাড়তে দেননি কোহলি। পালটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিউয়ি বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তিনি। ৫১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। গিলের সঙ্গে তাঁর জুটিতে ওঠে ১১৪ রান। কোহলির এই ইনিংসে মুগ্ধ গিলও। তাঁর কথায়, “বৃষ্টির মধ্যে রান তাড়া করা মোটেই সহজ কাজ নয়। বৃষ্টির জন্য পিচে বলের গতি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলার চেষ্টা করছিলাম। সেই পরিস্থিতিতে বিরাট ভাই যেভাবে ব্যাট করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। ও আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। বিরাট ভাই-ই ম্যাচ জিতিয়েছে।” শনিবার ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে শুভমানের দল। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই পরের ম্যাচে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
