আগামী ১৫ নভেম্বর ইন্দোরে পাঞ্জাবি গায়ক দিলজিতের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক। ‘অরা ইন্ডিয়া টুর’-এর পরবর্তী কনসার্ট ইন্দোরে। তার আগেই দিলজিতের গাওয়া চারটি জনপ্রিয় গান পরিবেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট গানগুলি শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গানের কথা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত নয় বলে দাবি প্রশাসনের। কনসার্টে ছোট থেকে বড় সকলেই দিলজিতের গান শুনতে আসবে। তাই নির্দিষ্টি চারটি গানকে কনসার্টের জন্য ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন চারটি গান নিষিদ্ধ করা হয়েছে? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৬ নভেম্বর মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক চারটি গান পরিবেশনে আপত্তি জানিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘পাতিয়ালা পেগ’, ‘৫ তারা’, ‘কেস’, ‘জাট উঠা ফায়ার করদা’। কেন প্রশাসনের নজরে এসেছে গানগুলি? দিলজিৎ দোসাঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘পাতিয়ালা পেগ’-এর মূল বিষয়বস্তু হল বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান এবং প্রেমে আঘাতের কষ্ট ভুলতে অ্যালকোহলের আশ্রয় নেওয়া। কাউকে ভুলে নতুন জীবন শুরু করতে মদ্যপানের প্রসঙ্গ শিশুমনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিশু সুরক্ষা দপ্তর।

‘৫ তারা’ গানের বিষয়বস্তুও সেই মনের যন্ত্রণায় প্রলেপ লাগানোর অস্ত্র মদ্যপান। ‘কেস’-ও দিলজিতের গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান। এই গানের রয়েছে নেশাদ্রব্য আফিমের মতো শব্দবন্ধ। সেই সঙ্গে আইন, সংঘাতের মতো বিষয়গুলোও গানের বেশ কিছু অংশে বিদ্যমান। চতুর্থ গান ‘জাট উঠা ফায়ার করদা’য় অস্ত্র এবং হিংসার প্রসঙ্গ আরও বেশি প্রকট হয়েছে। একজন শক্তিশালী, নির্ভীক ব্যক্তির ছবি তুলে ধরা হয়েছে যে প্রতিপক্ষকে ভয় পায় না। গানের বিভিন্ন অংশে পিস্তল, হুমকি এবং শারীরিক সংঘর্ষের উল্লেখ রয়েছে। গানে ব্যবহৃত এধরনের শব্দবন্ধ শৈশবকে কলুসিত করতে পারে বলে দাবি আধিকারিকের।

এই প্রসঙ্গে আধিকারিক ২০১৯ সালের ২২ জুলাই পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের একটি নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন। ওই নির্দেশে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং চণ্ডীগড়ের কর্তৃপক্ষকে জনসমক্ষে অনুষ্ঠান ও লাইভ শোয়ে মদ্যপান, মাদক এবং হিংসার প্রচার রয়েছে এমন গান বাজানো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারী আরও দাবি, দিলজিৎ গানগুলির কথা পরিবর্তন করলেও যেন সেগুলি পরিবেশন করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও মঞ্চে শিশুদের আমন্ত্রণ জানানো এবং দুই কাঁধে ক্রস করে রুপোর বুলেটের বেল্ট বা ব্যান্ডোলিয়ার পরা নিয়েও আপত্তি জানান।
