প্রথমে সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম-যৌনতার ফাঁদ। এই ঘনিষ্ঠতার আড়ালেই চলছে ভিন্ন খেলা। নৌসেনাকর্মীদের ফাঁদে ফেলে গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছেন পাক সুন্দরীরা। তারপর সেগুলি তাঁরা তুলে দিচ্ছেন সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে। সম্প্রতি এমনই চক্রের পর্দাফাঁস করেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল।
সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌসেনাঘাঁটির এক গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে তাঁর নাম আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদ। প্রায় ছ’মাস আগে সমাজমাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। অভিযোগ, তরুণী নিজেকে জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। প্রাথমিকভাবে আন্নামের সন্দেহ হলেও ওই তরুণী তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপরই দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। জানা গিয়েছে, প্রথমদিকে আন্নামের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ওই তরুণী। একাধিক প্রশ্নও করেন। যেমন – আন্নাম কোথায় থাকেন, তাঁর পেশা কী, তিনি বিয়ে করেছেন কিনা ইত্যাদি। কিন্তু পরে ওই তরুণী আন্নামের কর্মস্থল সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর, আন্নামের বেতন কত, কী গাড়ি চালান – সেসব জিজ্ঞাসা করেন তরুণী। শুধু তাই নয়, তিনি যৌনগন্ধী বিভিন্ন মেসেজ, ছবি এবং ভিডিও পাঠানো শুরু করেন বলে খবর। এক পর্যায়ে আন্নামের বিশ্বাসভঙ্গ হয় এবং তাঁর মনে সন্দেহের উদ্রেগ ঘটে। কিন্তু ততদিনে নৌসেনার এবং নৌঘাঁটির খুঁটিনাটি তথ্য তিনি দিয়ে দিয়েছেন তরুণীকে। আন্নাম আরও তথ্য জানাতে অস্বীকার করলে তরুণী এবার হুমকি দিতে শুরু করেন। চলে ব্ল্যাকমেলও। এমনকী গ্রেপ্তারিরও ভয় দেখান তিনি।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে আন্নামের এহেন কার্যকলাপের বিষয়ে খবর পান অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স। তারপরই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখেন তাঁরা। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের খবর, আন্নামের মতো একই কৌশলে দেশের ১০ রাজ্যের মোট ১৬ নৌসেনাকর্মীকে প্রেম-যৌনতার ফাঁদে ফেলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
