ইদানীংকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের অভিযোগে একাধিক বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ মাদ্রাজ হাই কোর্ট। নতুন করে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে এক ডিএমকে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। তিনি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আর্জি জানান, সেই মামলার শুনানিতে আদালতের মন্তব্য, পুলিশের কাজ শাসকের সেবা নয়। বরং রাষ্ট্রের সেবা করা। শাসনব্যবস্থা যাতে সংবিধান মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষ থাকা উচিত। বলা বাহুল্য, মাদ্রাজ হাই কোর্টের এই মন্তব্য মুখ পুড়ল শাসক দল টিভিকের।
বৃহৎ চেন্নাই পুরনিগমের ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডিএমকে নেতা এম সুধার আগাম জামিনের আর্জির মামলাটি উঠেছিল বিচারপতি এন রমেশের বেঞ্চে। আবেদনকারীর জামিনে মঞ্জুর করার পাশাপাশি বিচারপতি মন্তব্য করেন, “রাজনৈতিক আলোচনা এখন অনেকাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই হয়। এটি সর্বজনবিদিত, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি, যার মধ্যে ক্ষমতায় থাকা দলটিও অন্তর্ভুক্ত, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়, এর জন্য তাদের ‘আইটি উইং’ কাজ করে। এদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিপক্ষকে ‘ট্রল’ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আদর্শগত, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো।” এই ঘটনা এখন সাধারণ।
এটুকুতেই না থেমে তামিলনাড়ু পুলিশকে দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি এন রমেশ। তিনি মন্তব্য করেন, “শাসক এবং বিরোধী দলের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করাটা পুলিশের কোনও সৌজন্য নয়। এটা তাদের কর্তব্য, অন্যতম সাংবিধানিক শর্ত।” হাই কোর্ট মন্তব্য করে, “পুলিশ কাজ রাষ্ট্রের সেবা করা, শাসক দলের নয়। কারণ রাষ্ট্রই চিরস্থায়ী, সরকারে ক্ষমতাসীন দল বদলাতে থাকে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে হামেশাই ‘ট্রোল’ করে থাকে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ যতটা দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে, শাসকদলের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না— এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।
এদিন আদালত পুলিশের প্রকৃত মূল্যায়ণও ব্যাখ্যা করে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ভিআইপিদের ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন, সেটা মূল্যায়নের মাপকাঠি নয়। বরং যখন আশপাশে কেউ নেই, তখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ কী আচরণ করছে, সেটাই মূল্যায়ণের মাপকাঠি হওয়া উচিত। এইসঙ্গে হাই কোর্ট অবশ্য জানিয়েছে, ডিএমকে কাউন্সিলরের মামলায় পুলিশ যে শাসকদল টিভিকে-র নির্দেশ মতো কাজ করেছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।
