Hashtagintro

কন্যার দেখা পেতে আদালতে ‘অসহায়’ পিতা, ‘সন্তানসঙ্গ থেকে বঞ্চিত করা যায় না বাবা-মাকে’, বলল হাই কোর্ট  

সম্পূর্ণভাবে হেফাজতে না পেলেও নিজের সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত করা যায় না। এক পারিবারিক মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। পুজোর ছুটিতে বাবার সঙ্গে নাবালিকা শিশুকন্যার থাকার অনুমতি না পেলেও কালীপুজো ও ভাইফোঁটার সময়ে বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার নিশ্চিত করল আদালত। হাই কোর্টের পুজোর অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি রিশাদ মেদোরা অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ, আগামী ২, ৪ ও ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত নাবালিকাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (State Legal Services Authority) দপ্তরে নিয়ে আসতে হবে। সেখানে বাবা ও তাঁর বাবা-মা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মা এবং তাঁর বাবা-মাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

সাক্ষাতের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সমস্ত পক্ষ ও পরিবারের সদস্যদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মেম্বার সেক্রেটারিকে ওই তিন দিন একজন আধিকারিককে উপস্থিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে আদালত। উভয় পক্ষের আইনজীবীদেরও ওই সময়ে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। মামলায় আবেদনকারী সুবিমল সরকার (নাম পরিবর্তীত)। অপরপক্ষ তাঁর স্ত্রী সুনয়না সরকার (নাম পরিবর্তিত)। সূত্র মারফত জানা যায়, প্রায় ৯ বছর বয়সি নাবালিকা কন্যা সুকন্যার সঙ্গে ২০২৫ সাল থেকে বাবার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। পুজোর ছুটিতে মেয়েকে নিজের কাছে রাখার জন্য আলিপুরের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন বাবা। কিন্তু ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় নাবালিকা জানায়, সে বাবার সঙ্গে থাকতে বা যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী নয়। মেয়ের এই স্পষ্ট অনিচ্ছার কথা বিবেচনা করেই অস্থায়ী হেফাজতের আবেদন খারিজ করেছিল নিম্ন আদালত।

এরপর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাবা। তাঁর আইনজীবী সন্দীপন দাসের বক্তব্য, মেয়ের অস্থায়ী হেফাজত না দেওয়া হলেও অন্তত কালীপুজো ও ভাইফোঁটার সময়ে মেয়ের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। অন্যদিকে, মায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েকে বাবার হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে মায়ের উপস্থিতিতে বাবা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রিশাদ মেদোরা পর্যবেক্ষণে বলেন, নাবালিকা সন্তানের ইচ্ছা ও মতামতকে অবশ্যই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু সেই কারণে বাবাকে তাঁর নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। অস্থায়ী হেফাজত না পেলেও মেয়ের সঙ্গে দেখা করার অধিকার বাবার রয়েছে। এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করে দিল, সন্তানের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মামলাটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

Source: Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language