Hashtagintro

কল্যাণী হাইওয়েতে উদ্ধার বিরল প্রজাতির ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’, পাচার চক্রের জাল আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও!

গত কয়েকদিন আগে উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি ওরাংওটাং উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় আন্তর্জাতিক পশুপাচার চক্রের হদিস পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ (Bengal slow loris)-এর একটি শাবক উদ্ধার করল কল্যাণী থানার পুলিশ। কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি মোটরবাইক থেকে বিরল ওই বন্যপ্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীটিকে কোথা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে ইতিমধ্যে ধৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পিছনে বড়সড় কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের খোঁজ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান চলাকালীন সন্দেহভাজন দুই মোটরবাইক চালককে আটক করে তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। তল্লাশি চলাকালীন বাইকে থাকা একটি ঝুড়ি থেকে বেঙ্গল স্লো লরিস প্রজাতির একটি শাবক উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় সুজয় দাস এবং ইন্দ্রজিত মুখোপাধ্যায়কে। একজন নাগেরবাজারের বাসিন্দা, অন্যদিকে কাশীপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, সুজয় দাসের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার তথ্য রয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানা সংক্রান্ত বন্যপ্রাণী পাচারের একটি মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

কী এই বেঙ্গল স্লো লরিস?

বেঙ্গল স্লো লরিস একটি নিশাচর প্রাইমেট, যা মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে বসবাস করে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-সহ এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে এই প্রাণীর দেখা মেলে। বড় বড় চোখ, গাছের ডাল আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা এবং ধীরগতিতে চলাফেরা করার জন্য প্রাণীটি বিশেষভাবে পরিচিত। সাধারণত রাতের বেলায় এরা খাবারের সন্ধানে বের হয় এবং দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের আড়ালে বিশ্রাম নেয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু অস্তিত্ব ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ মূল্যায়নে বেঙ্গল স্লো লরিসকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এই প্রাণীকে অবৈধভাবে সংগ্রহ, পরিবহণ বা বিক্রির চেষ্টা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language