Hashtagintro

খুলে দেওয়া হয়েছে বক্সা টাইগার রিজার্ভ! উৎসবের আবহেও কেন পর্যটক শূন্য অরণ্য?

উৎসবের ঢাকে কাঠি! ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। কিন্তু উৎসবের আবহেই সুনসান বক্সা টাইগার রিজার্ভ। সাফারিতে পর্যটক নেই। হোম স্টে গুলোও খাঁ খাঁ করছে। বাঘিনি ছাড়ার পরে বনাঞ্চল খুললেও পর্যটকদের আনাগোনা নেই এই বনাঞ্চলে । কারণ নিয়ে নানা মুনির নানা মতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও বক্সা টাইগার রিজার্ভের পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা বলেন, “ ১০ অক্টোবর থেকে আমরা বনাঞ্চল খুলে দিয়েছি। শুধুমাত্র বাঘিনিকে বিরক্ত না করার জন্য কিছু রুটে সাফারি বন্ধ করা হয়েছে। একাধিক রুটে সাফারি খোলা রয়েছে। বাঘিনিকে ধাতস্থ হওয়ার সময় দিতে হবে। এবার পর্যটক আসছে কিনা, না আসলে কেন আসছে না সেসব বিষয়ে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর রাজ্যের সব বনাঞ্চল বন্ধ থাকে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বনাঞ্চল খুলে যায়। বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনাঞ্চলও ১৬ সেপ্টেম্বর খুললেও নানান ডামাডোলে মুখ থুবরে পড়েছে বক্সার পর্যটন।

গত কয়েকদিন আগেই বিহার থেকে একটি তিন বছর বয়সের বাঘিনিকে এনে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে। অন্য বনাঞ্চল থেকে বাঘিনি এনে এখানে ছাড়ার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সায় সব রকম পর্যটন বন্ধ রেখেছিল। ১০ অক্টোবর ফের বক্সা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দিন বক্সা টাইগার রিজার্ভের ভেতরে থাকা ১৮ টি বন বস্তির মানুষেরা বক্সা টাইগার রিজার্ভে ঢোকার বি এফ রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান । তার জেরে ১০ অক্টোবরও কোন পর্যটক বনাঞ্চলে ঢুকতে পারেনি। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যার পর বন বস্তির বাসিন্দারা রাস্তা খুলে দিলেও পর্যটকদের দেখা মিলছে না। বক্সাতে থাকা হোম স্টে গুলো খাঁ খাঁ করছে। আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মানব বক্সি বলেন, “বন বস্তিবাসিরা যে আন্দোলন করছেন আমরা সেই আন্দোলনের পাশে আছি। পুজোর আগে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করল বনদপ্তর যার ফলে বক্সা থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমরা হোম স্টেতে পর্যটক এলে রাখবো। কিন্তু কোন পর্যটকই আসছে না। যেসব বুকিং ছিল সেগুলোও পর্যটকরা বাতিল করে টাকা ফেরত নিয়েছে। সাফারি রুট বন্ধ। ফলে পর্যটকরা এসেই বা কী করবেন!”

জানা গিয়েছে, ৫ অক্টোবর থেকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের রাজাভাতখাওয়া গেটের পাশে জঙ্গলের ভেতরে থাকা ১৮ টি বন বস্তির মানুষেরা অবস্থান বিক্ষোভ আন্দোলন করছেন। বন দপ্তরের কড়াকড়ি নিয়মের প্রতিবাদ ও বনাধিকার আইন ২০০৬ লাগু করার দাবিতে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ১০ অক্টোবর এই আন্দোলনকারিরাই বক্সাতে ঢোকার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। রাস্তা অবরোধ ওই দিন তুলে নিলেও অবস্থান বিক্ষোভের আন্দোলন এখনও চলছে। এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বক্সা টাইগার রিজার্ভের সাফারি গাড়ির চালকরাও। সাফারি গাড়ি বন্ধ রেখে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন তাঁরা। সাফারি গাড়ির চালক কিষান দাস বলেন, “ চুনিয়া ওয়াচ টাওয়ারের মতো জনপ্রিয় সমস্ত সাফারি রুট বন্ধ করে দিয়েছে বনদপ্তর। মহাকাল রুট খোলা বলছে বন দপ্তর। অথচ ওই রুটের রাস্তাই তৈরি করা হয় নি। ফলে পর্যটকরা আসছেন না। পর্যটকদের খরচ দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। পর্যটকই নেই। তাহলে আমরা আর সাফারি গাড়ি কাদের নিয়ে চালাব। সেই কারণে গাড়ি বন্ধ রেখে আমরা আন্দোলনে সামিল হয়েছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সাফারি গাড়ি খুলবো না।”

উল্লেখ্য, ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর রাজ্যের সব বনাঞ্চল বন্ধ থাকে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বনাঞ্চল খুলে যায়। বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনাঞ্চলও ১৬ সেপ্টেম্বর খুললেও নানান ডামাডোলে মুখ থুবরে পড়েছে বক্সার পর্যটন।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language