চিন সীমান্ত সংলগ্ন ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর আকাশসীমা সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নয়াদিল্লির। এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেমের পর এবার মোতায়েন করা হল বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি। যা রীতিমতো ভয় ধরাবে চিন-পাকিস্তানের। একেবারে পাহাড় ভেদ করে চলবে শত্রুপক্ষের উপর নজরদারি।
চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশলগত কারণেই ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমশ আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আকাশসীমা সুরক্ষায় মোতায়েন করা হল বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি ‘ইজরায়েলি অ্যারোস্ট্যাট রাডার’। দুর্গম পাহাড় ঘেরা এলাকায় সাধারণ রাডার ভালোভাবে নজরদারি চালাতে পারে না। সেখানে ইজরায়েলের আধুনিক অ্যারোস্ট্যাট রাডার আকাশের অনেক উঁচুতে বেলুনে ভেসে পাহাড়ের বাধা এড়িয়ে শত্রু পক্ষের গতিবিধির উপরে নজর রাখতে সক্ষম। এটি খুবই কম উঁচু দিয়ে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের ক্রুজ মিসাইল, স্টিলথ ড্রোন অথবা যুদ্ধবিমান অনেক দূরে থেকে নিখুঁতভাবে নজরে রাখতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর তৈরি ৩-ডি রাডারটি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার আকাশসীমায় নজরদারি চালাতে সক্ষম।
ইতিমধ্যে ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে যে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে সেখানে নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তের পাতা পড়লেও এখন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়া থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ‘চিকেনস নেক’ রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শত্রুপক্ষের কড়া জবাব দিতে সীমান্তে রণসজ্জায় সজ্জিত ভারতীয় সেনা।
চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মিলিত হওয়ায় এই পথে যেমন অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক থাকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশি জঙ্গিদের। পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, চিন-পাকিস্তানের টার্গেটে রয়েছে চিকেনস নেক। সেদিকে নজর রেখে ভারতীয় বিমান বাহিনী জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করেছে নয়াদিল্লি। এছাড়াও মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ওই আন্ডার গ্রাউন্ড রেললাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগ অটুট রাখবে। চিন, বাংলাদেশ কোনওভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টারর্সকে টার্গেট করলে, মাটির তলায় রেলপথেও যুদ্ধের রসদ পাঠাতে পারবে ভারত। অর্থাৎ মাটির উপরে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না উত্তর-পূর্বাঞ্চল। এবার চিন সীমান্ত সংলগ্ন করিডোরের নিরাপত্তা আরও বাড়াতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অ্যারোস্ট্যাট রাডার প্রযুক্তি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।