ছেলের পরীক্ষার সাফল্যে বিলাসবহুল বিএমডাব্লু উপহার বাবার। সেই ছবি-ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সেই গাড়ির ছবি। এবার তাতেই সওয়ারি হলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র। একইসঙ্গে ওই ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মিদ্যার প্রশংসাও করতেও শোনা যায় বিধায়ককে। রাজু পাত্রের কথায়, চাল দপ্তারি করে বিদেশ থেকে ডলার এনে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন তিনি। যা খুবই উল্লেখযোগ্য।
বিজেপি বিধায়ক এদিন বলেছেন, দাড়ি টুপি আছে মানেই তিনি বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের লোক হয়ে যাবেন, তা নয়।
গলসির পারাজের বাসিন্দা সামসুদ্দিন মিদ্যার ছেলে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ায় মুম্বই থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করে ওই গাড়ি কিনে এনেছেন। একসময় মুম্বইয়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে লাইটম্যানের কাজ করতেন তিনি। কয়েকবছর সেখানে কাটিয়ে গ্রামে ফিরে শুরু করেন চালের ব্যবসা। ধীরে ধীরে সেই ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে শুরু করেন চাল রপ্তানি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় চাল রপ্তানি করেন তিনি। রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চালের ব্যবসার মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর ব্যবসার হাত ধরে বিদেশি মুদ্রাও আসছে দেশে। শনিবার সামসুদ্দিনের গাড়িতে চড়েন গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র। গাড়ির সব ফিচার নিরীক্ষণ করেন।

এদিকে, সামসুদ্দিনের বেশভূষা নিয়ে সমাজমাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ কটূক্তি করতে শুরু করে। সেই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক এদিন বলেছেন, দাড়ি টুপি আছে মানেই তিনি বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের লোক হয়ে যাবেন, তা নয়। রাজু পাত্রের কথায়, ”সামসুদ্দিন গলসির বড় ব্যবসায়ীদের একজন। সমাজের বহু মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাঁর কাছে কাজ করেন প্রায় এক হাজার মানুষ।” অন্যদিকে সামসুদ্দিন এদিন জানান, ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সরকারি সুযোগ পেলে আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে নিজে সেইভাবে পড়াশোনা করতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেবেন পেশায় চাল ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন।
