প্রায় ৩০ বছরের অপ্রাপ্তির দিন শেষ। দীর্ঘ সময়ে ইনডোর পরিষেবা বন্ধ থাকার পর নবরূপে চালু হলো পুরুলিয়ার মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের আঁকরো প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নতুনভাবে ১০ শয্যার এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সূচনা হয় শনিবার পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর হাত ধরে। এতে মানবাজার ২ ব্লকের বোরো-জারগো ও আঁকরো-বড়কদম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
তৃণমূল জমানার সময়ে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ১ কোটি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭৩ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু তা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে এই কাজ দ্রুত হয়। শনিবার এই ইনডোর পরিষেবা চালুর সময় জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের তৎপরতার কথা ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে জানিয়ে বাহবা দিলেন সাংসদও। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু দীর্ঘ বাম আমলে তা হয়নি। হয়নি তৃণমূল জমানাতেও।” এদিন ইনডোর পরিষেবা চালু হবার পর তা ঘুরে দেখেন সাংসদ। অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্তম, বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে, মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু, বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতো।
এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আগে পোড়ো বাড়ি হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই ভবন ঝাঁ চকচকে। এখানে সবসময়ের জন্য দু’জন চিকিৎসক থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন ৬ জন স্টাফ ও নার্স। এই আঁকরো ও এই ব্লকের জামতোড়িয়া সেইসঙ্গে বান্দোয়ানের লতাপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষজন আন্দোলন করেছিলেন। তাই এই বেহাল স্বাস্থ্যকেন্দ্র মানুষজনকে যথাযথ পরিষেবা দিতে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক স্বাস্থ্যভবনের কাছে রীতিমত দরবার করেন। পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্দোয়ানের লতাপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ওই কাজ জোরকদমে চলছে। খুব শীঘ্রই জামতোড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টাকা বরাদ্দ হলে সেখানেও কাজ শুরু হয়ে যাবে। একইভাবে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা আড়শা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনডোর পরিষেবা চালু হয়ে যাবে শীঘ্রই। ওই বেহাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্যও বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা।
