Hashtagintro

প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! কুলপিতে ধৃত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ যুবক

প্রাথমিক স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ! এহেন অভিযোগে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এক যুবককে গ্রেপ্তার করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থানার পুলিশ। ধৃত ওই যুবক পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন বলে অভিযোগ। সেই সংক্রান্ত অভিযোগ আসতেই ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে ডায়মন্ডহারবার আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রতারিতদের অভিযোগ, “সবকিছু বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে আমাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় ধৃত যুবক। এমনকি ওই যুবকের ভাই যে কুলপির রামকিশোর গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য সেকথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।”

ধৃত ওই যুবকের নাম শেখ শাহিদ হোসেন। কুলপি থানার শ্যাম বসুর চকের বাসিন্দা তিনি। তৎকালীন প্রভাবশালী একাধিক তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ছবি রয়েছে শেখ শাহিদ হোসেন। অভিযোগ, সেই সমস্ত ছবি দেখিয়ে কর্মপ্রার্থী যুবক-যুবতীদের প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর প্রাথমিক স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিশাল অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করতেন। প্রার্থী পিছু ১০ লক্ষ করে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ অভিযোগকারীদের। এভাবেই বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা ধৃত যুবক নেয় বলে অভিযোগ। চাকরি না পেয়ে প্রতারিত কর্মপ্রার্থীরা সেসময় পুলিশে অভিযোগ জানালেও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর জনৈক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দিন খান ওই যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ায় এতদিন তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। শেষপর্যন্ত পুলিশের জালে বন্দি হন শাহিদ। রবিবার ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতের নির্দেশে ধৃতকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর আইনজীবী সাজাহান জমাদার জানান, ধৃত যুবক তৃণমূল নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ও নেতাদের সঙ্গে সেই ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন সময়কার ছবি দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা হয়। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “ওই প্রতারক যুবকের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী ছিল যে টাকা দেওয়া বেকার যুবক-যুবতীদের প্রত্যেককেই সে চাকরির ভুয়ো প্যানেল দেখায়। এমনকি চাকরিপ্রার্থীরা ফোনে কাউন্সেলিংয়ের মেসেজও পান। ওই বেকার যুবক-যুবতীদের ইন্টারভিউর জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসে এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে বিকাশ ভবন পর্যন্তও নিয়ে যায় প্রতারক।” আইনজীবীর কথায়, পুরোটাই ছিল নাটক। 

এদিকে প্রতারিতদের অভিযোগ, “সবকিছু বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে আমাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় ধৃত যুবক। এমনকি ওই যুবকের ভাই যে কুলপির রামকিশোর গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য সেকথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।” পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত সেই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language