Hashtagintro

বিনম্র ব্যবহার, পেমেন্ট ‘সাকসেসফুল’ মেসেজ দেখিয়ে একাধিক সোনার গয়নার দোকানে চুরি! পাকড়াও মহিলা

ধোপদুরস্থ পোশাক। বিনম্র ব্যবহার। একাধিক সোনার দোকান থেকে গয়না চুরির তদন্তে নেমে ওই মহিলাকেই পাকড়াও করল পুলিশ। অভিনব কায়দায় ওইসব দোকান থেকে গয়না চুরি হচ্ছিল। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম মধুরিমা দাস। তিনি লেক থানার বাসিন্দা। কতগুলি দোকানে তিনি এখন অবধি সোনার গয়না চুরি করেছেন? সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিন্তু কী সেই চুরির অভিনব কায়দা? সোনার গয়না পছন্দের পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে পেমেন্ট করতেন তিনি। দোকানের মালিককে পেমেন্টের মেসেজ দেখানো হত। সেই গয়না নিয়ে দোকান ছেড়ে চলে যেতেন। টাকা ব্যাঙ্কে চলে গিয়েছে মনে করে গয়না দিয়ে দিতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পরে ব্যবসায়ী বুঝতে পারতেন, কোনও টাকাই তাঁর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। এক ব্যবসায়ী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই তদন্তে নেমেই পুলিশ পাকড়াও করলেন মধুরিমা দাসকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা প্রথমে রেইকি করতেন ওইসব সোনার দোকানগুলিতে। সব খোঁজখবর করে তথ্য জোগাড় করা হত। এরপরই ক্রেতা সেজে ওইসব দোকানে হানা দিতেন মধুরিমা। গয়না পছন্দ করা হত। দরদাম করার পরেই ওই গয়না দোকানিকে দিতে বলতেন তিনি। সঙ্গে ক্যাশ টাকা নেই। অনলাইনে পেমেন্ট হবে, দোকানিকে সেই কথাই জানানো হত। দোকানি রাজি হলে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করা হত। টাকা ঢুকে গিয়েছে, সেই মেসেজও ব্যবসায়ীকে দেখিয়ে দিতেন তিনি। আর সেখানেই থাকত আসল ফাঁদ।

এই ধরনের মেসেজই ব্যবসায়ীদের দেখিয়ে নেওয়া হত গয়না।

জানা গিয়েছে, ওই মোবাইল মেসেজ আদতে ফোনে বানানো থাকত। ব্যস্ততার মধ্যেই দোকানিকে টাকা ঢুকেছে বলে ওই সাজানো মেসেজ দেখানো হত। ব্যবসায়ীদের খটকা লাগলেপ্ন অনেকে মনে কর‍তেন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে গিয়েছে! পরে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে বোঝা যেত, বাস্তবে কোনও টাকা জমাই পড়েনি। এমনই একটি ঘটনা ঘটে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কালীবাজারের একটি সোনার দোকানে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে নরেন্দ্রপুর থানার দ্বারস্থ হন দোকানের কর্ণধার তারক কর্মকার। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর দাবি, এর মধ্যে ওই মহিলার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। ওই মহিলা বারবার জানিয়েছেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই দোকানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, দুড়িয়া, খড়দহ, রাজারহাট-সহ একাধিক এলাকার সোনার দোকানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই ওই মহিলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। মধুরিমা দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মহিলার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা রুজু হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সোনার গয়নাও। ঘটনায় ওই মহিলা একাই যুক্ত? নাকি পিছনে আরও কেউ রয়েছে? খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language