Hashtagintro

‘মূত্রত্যাগ করি’, ব্রাহ্মণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, হাজিরা এড়িয়ে গ্রেপ্তারির মুখে অনুরাগ কাশ্যপ?

রাগের বশে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বিপাকে অনুরাগ কাশ্যপ। অনন্ত মহাদেবনের ‘ফুলে’ ছবির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ সমাজকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ উঠতেই প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন পরিচালক। ছবিটি সেন্সরের কোপে পড়ায় অনন্তের পক্ষ নিয়ে অনুরাগ যে ভাষায় প্রতিবাদ করেন, সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। যে বিতর্কের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অনুরাগ কাশ্যপের (Anurag Kashyap) বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও হাজিরা দেননি পরিচালক। সেই প্রেক্ষিতেই এবার অনুরাগকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল সুরাট আদালত।

সুর চড়িয়ে পরিচালক বলেন, ‘ব্রাহ্মণদের উপরে আমি মূত্রত্যাগ করি… সমস্যা আছে?’ এরপরই বিতর্ক তুঙ্গে! বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অনুরাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা কমলেশ রাভাল। পরিচালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো), ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান) এবং ৩৫৩(২) ধারা (মিথ্যা তথ্য প্রচার) অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়।

ব্রাহ্মণদের অপমানের অভিযোগে ‘ফুলে’ সিনেমাটি সেন্সরের কোপে পড়তেই সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। পালটা এক নেটিজেন তাঁকে আক্রমণ করতেই সুর চড়িয়ে পরিচালক বলেন, ‘ব্রাহ্মণদের উপরে আমি মূত্রত্যাগ করি… সমস্যা আছে?’ এরপরই বিতর্ক তুঙ্গে! বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অনুরাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা কমলেশ রাভাল। যিনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্ত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গুজরাটের সুরাট আদালতে পরিচালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো), ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান) এবং ৩৫৩(২) ধারা (মিথ্যা তথ্য প্রচার) অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়। এরপর একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও আদালতে হাজিরা দেননি অনুরাগ কাশ্যপ। এমনকী মুম্বইয়ের এক প্রথমসারির সংবাদপত্রেও তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু তাতেও পাত্তা দেননি পরিচালক। আর ঠিক সেকারণেই এবার কড়া পদক্ষেপ আদালতের। সুরাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জে ভি চৌহান অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Surat court issues a bailable warrant against Anurag Kashyap
ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে অনুরাগ কাশ্যপের আপত্তিকর মন্তব্য।

“আমি নিজেই এমন মন্তব্য করেছি, যা আসল ইস্যু থেকে অনেককে দিকভ্রষ্ট করেছে। আমি মন থেকে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। রাগের বশে অন্য কাউকে উত্তর দিতে গিয়ে জঘন্য টিপ্পনি কেটেছি!”

বিতর্কের জেরে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন অনুরাগ। তিনি বলেছিলেন, “আমি রাগের বশে অন্য একজনকে জবাব দিতে গিয়ে নিজের মান-মর্যাদার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আর পুরো ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে খারাপ কথা বলে ফেলেছি। সেই সমাজ, যার অধিকাংশ আমার জীবনের সঙ্গে জুড়ে। এখনও অনেক অবদান রয়েছে তাঁদের আমার জীবনে। আজ তাঁরা সকলে আমার এহেন মন্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন। আমার নিজের পরিবার আমার কথায় ‘আহত’ হয়েছে। অনেক বুদ্ধিজীবী, যাঁদের আমি সম্মান করি, তাঁরা আমার রাগের বশে করা শব্দচয়ন নিয়ে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। আমি নিজেই এমন মন্তব্য করেছি, যা আসল ইস্যু থেকে অনেককে দিকভ্রষ্ট করেছে। আমি মন থেকে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। রাগের বশে অন্য কাউকে উত্তর দিতে গিয়ে জঘন্য টিপ্পনি কেটেছি!”

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? কমলেশ রাভাল আদালতে জানান, জ্যোতিরাও ফুলের জীবনীচিত্র ‘ফুলে’-এর ট্রেলার মুক্তির পর অল ইন্ডিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ এই ছবির তুমুল বিরোধিতা করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঘৃতাহুতির কাজ করেছিল এক্স হ্যান্ডেলে অনুরাগের পোস্ট। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় নেটভুবনে। অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের পোস্ট বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে। ভারতীয় ছবির পরিচালক হওয়ার দরুণ আবালবৃদ্ধবনিতা তাঁর সিনেমা দেখেন। তারকাদের মন্তব্য সাধারণ মানুষকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। তারকাদের অনুকরণের একটা প্রবণতাও দেখা যায়। তাই এই ধরনের মন্তব্য সুস্থ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক। তিনি আরও যোগ করেন, অনুরাগকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন।

Source: Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language