মানহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি নোটিস জারি করা হয়েছে। যেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনা সূত্রপাত ২০১৯ সালে কর্নাটকের নির্বাচনী জনসভায় রাহুল বলেছিলেন, “সব চোরেদের পদবি কেন মোদি হয়? নীরব মোদি, ললিত মোদি, নরেন্দ্র মোদি।” তাঁর সেই মন্তব্যের জেরে বিজেপি বিধায়ক পূর্ণেশ মোদি তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক মানহানি’র মামলা করেন। এই মামলায় ২০২৩ সালে গুজরাটের নিম্ন আদালত রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। যার জেরে ওয়েনাড়ের সাংসদ পদ খারিজ হয় রাহুলের। এমনকী ৬ বছরের জন্য তাঁর নির্বাচন লড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। গুজরাট হাই কোর্টও এই রায় বহাল রাখে। এর পালটা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাহুল। আদালত বলে, “কেন রাহুল গান্ধীকে এই মামলায় সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল, তার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নিম্ন আদালত দেখায়নি। তাই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় স্থগিত রাখা হল।” পাশাপাশি রাহুলকে সতর্ক করে আদালত জানায়, “এই ধরনের মন্তব্য করার আগে তাঁর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।”
মোদির কুমন্তব্যের জেরে মহারাষ্ট্রের একটি ট্রায়াল কোর্টেও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা চলছিল। এর আগে এই মামলায় বোম্বে হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করে করেছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্র সরকার ও মামলাকারী এম এইচ শ্রীশ্রিমলের কাছে নোটিস জারি করেছে। চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব তলব করা হয়েছে। এবং পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে চলা ওই মানহানি মামলার সমস্ত কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
