ঘোষণার পর থেকেই চার হাজার কোটির সিনেম্যাটিক মহাকাব্য নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। ‘রামায়ণ’-এর কাস্টিং থেকে মেকিং- সবটাই আসমুদ্রহিমাচলের দর্শক-অনুরাগীদের আতশকাচে। গোড়া থেকেই এই সিনেমা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কখনও ‘গোমাংস ভক্ষণকারী’ রণবীর কাপুরকে রাম অবতারে দেখে ফুঁসে উঠেছেন দর্শক, তো কখনও বা সিনেমায় অতিরিক্ত ভিএফএক্সের ব্যবহারে ভ্রু কুঁচকেছেন তাঁরা! এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রামায়ণ’-এর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত গান ‘মঙ্গল রং’। এআর রহমানের সুর করা যে গানে ইসলামিক ভক্তিগীতি কাওয়ালির সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। কেউ বা একধাপ এগিয়ে ‘রকস্টার’ ছবির ‘কুন ফায়া’ গানের সঙ্গেও তুলনা টেনেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘হিন্দু মহাকাব্যে কেন ইসলামিক সঙ্গীতের প্রভাব?’ সংশ্লিষ্ট বিতর্কযজ্ঞে এবার মুখ খুললেন রহমান (AR Rahman ) খোদ।
কারও খোঁচা, ‘রামায়ণে কাওয়ালি? এআর রহমানের কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে?” সুরকারকে ট্যাগ করে এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। এর আগে ছবির ‘রাবণ তাণ্ডব’ গানটি নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
‘মঙ্গল রং’ গানটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানাভাবে চর্চার শিরোনামে। কেউ ‘রাম’ রণবীরের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ‘সীতা’ সাই পল্লবীর চিত্রায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তো কেউ বা কাওয়ালি ছোঁয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। একাংশের প্রশ্ন, ‘বাল্মীকির রামায়ণে সুফি-কাওয়ালির সুর ব্যবহার বলিউডের চরম বিভ্রান্তি ব্যতীত কিছুই নয়। কোনও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নেই, গবেষণা নেই! বিশাল বাজেটের ছবিতে শুধুই স্টিরিওটাইপ মিউজিকের পুনরাবৃত্তি। হিন্দুদের পবিত্র পৌরাণিক কাহিনিকে রোমান্টিক-কমেডি সিনেমা না বানালেই চলছিল না?’ কারও খোঁচা, ‘রামায়ণে কাওয়ালি? এআর রহমানের কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে?” সুরকারকে ট্যাগ করে এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন। এর আগে ছবির ‘রাবণ তাণ্ডব’ গানটি নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এহেন গান-বিতর্কেই এবার মুখ খুললেন এআর রহমান।

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, গান তৈরির দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং প্রক্রিয়াতে এতটাই সময় এবং শক্তি ব্যয় হয় যে, সোশাল মিডিয়ায় কে-কী বলল? সেসব দেখার মানসিক অবকাশ থাকে না। রহমানের কথায়, “একটা গান তৈরি করতে গিয়ে আমাদের এতটাই ভাবনাচিন্তা করতে হয়, খাটতে হয় আর বারবার কাটাছেড়া করতে হয় যে লোকের প্রতিক্রিয়া দেখার মতো সময় কিংবা শক্তি কোনওটাই অবশিষ্ট থাকে না। কোনও গান প্রকাশের আগে আমরা সেটাকে বহুবার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করি। এরপরই সেটা রিলিজ করি। আমার ছেলে তো প্রায়ই আমাকে বলে- ‘গতকাল ওরা যা বলেছিল, এখন তার জন্যই ক্ষমা চাইছে আবার।’ আমি বলি, ‘ঠিক আছে। আমি শুধু নিজের কাজটা মন দিয়েকরেছি। মানুষ একদিন এই কাজই উদযাপন করবেন।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি।
“‘রকস্টার’ কিংবা ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর মতো পুরনো সাফল্য আঁকড়ে পড়ে থাকলে তো চলবে না আমার।…”
রহমানের সংযোজন, “কেরিয়ারের প্রথম ১০ বছর পেরোনোর পর অনেকে আমাকে বলতেন, ‘কেন সেই শুরুর দিনগুলির মতো কাজ করছেন না আপনি? কিন্তু ‘রকস্টার’ কিংবা ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর মতো পুরনো সাফল্য আঁকড়ে পড়ে থাকলে তো চলবে না আমার। নিজেকে একই জায়গায় আটকে রাখা যায় না। নদীর মতো বয়ে যেতে হয়। এবার ‘রামায়ণ’-এর কাজ এসেছে আমার হাতে, আর এই ছবির গান পাঁচটি ভিন্ন ভাষায় তৈরি হয়েছে। এ এমন এক মহাকাব্য, যা ভারতের প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। এই ছবির গান তৈরি করা এবং ভারত তথা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে এহেন উদযাপনের অংশ হতে পারা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।”
View this post on Instagram
