ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ছুটে আসছে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে। ইতিমধ্যেই তার জেরে বাংলায় উপকূল অঞ্চলের আবহাওয়া বদল হতে শুরু করেছে। উত্তাল হতে শুরু করেছে সমুদ্র। সেই সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হল এক তরুণের। আরও দু’জন তাঁর সঙ্গে সমুদ্রে নেমেছিলেন। তাঁরাও জলের তোড়ে কার্যত ভেসে যাচ্ছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণিতে সমুদ্রে নামার উপর আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার রামনগর থানা এলাকার কয়েকজন তাজপুরের মল্লিকা বিচ সংলগ্ন এলাকায় বনভোজন করতে গিয়েছিলেন। সেসময় অন্যদের বারণ উপেক্ষা করে গোবিন্দ পণ্ডা, সবুজবরণ সাউ ও বিকাশচন্দ্র জানা সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। অর্ণবের কারণে গতকাল, সোমবার থেকেই দিঘা, মন্দারমণির সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে। এদিন সকাল থেকে দেখা যায় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে পাড়ে।
জানা গিয়েছে, বারণ অগ্রাহ্য করে ওই তিনজন প্রথমে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। কর্তব্যরত নুলিয়ারা তাঁদের একবার সমুদ্র থেকে পাড়ে নিরাপদ স্থানে নিয়েও এসেছিলেন। কিছু সময় পরে ওই তিনজন ফের নুলিয়াদের নজর এড়িয়ে সমুদ্রে নেমেছিলেন। সেসময় উত্তাল সমুদ্রে তাঁরা তলিয়ে যেতে থাকেন। নুলিয়ারা দ্রুত জলে নেমে তিনজনকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক বছর ১৮-এর গোবিন্দ পণ্ডাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ২২ বছরের সবুজবরণ সাউ কাঁথি হাসপাতালে ভর্তি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৩৫ বছরের বিকাশচন্দ্র জানাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অর্ণবের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল থাকায় ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। এমনকী, সোমবার রাতের মধ্যে মৎস্যজীবীদের ট্রলার নিয়ে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশ সংগ্রহ ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মৎস্যজীবীরা। ইতিমধ্যে দিঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের যেমন ফিরে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই সমুদ্র থেকে পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।