Hashtagintro

বঙ্কিম সেতুর পিলারে ফুটে উঠছে বাংলার সংস্কৃতি, পানের পিক থেকে বাঁচাতে নয়া উদ্যোগ শুভেন্দু সরকারের

দুর্গাপুজোর আগে সাজিয়ে তোলা হয়েছিলো কলকাতার অনেক সেতুকে। এবার কালীপুজোর আগে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে হাওড়ার বঙ্কিম সেতুকে। সেতুর পিলারগুলিতে শিল্পীদের সাহায্যে নানারকম ছবি এঁকে বাংলা তথা হাওড়া জেলার কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হচ্ছে। আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পিলারে ছবি এঁকে এই কাজ ফুটিয়ে তুলছেন। এর ফলে বছরের পর বছর পানের পিকে ভর্তি থাকা বঙ্কিম সেতুর পিলারে একদিকে সৌন্দর্যায়ন হচ্ছে। অপরদিকে ক্রমশ ক্ষয় হতে চলা সেতুর পিলার আরও মজবুত হচ্ছে। যার ফলে সেতুর আয়ু বাড়ছে। হাওড়ার পুর কমিশনার তেজস্বী রানার নির্দেশেই কালীপুজোর আগে একটি আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই কাজ করছেন।

হাওড়ার বঙ্গবাসী মোড় থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাওড়ার বঙ্কিম সেতু। হাওড়া ময়দানে বঙ্কিম সেতুর নীচে প্রায় ১৪টি পিলারে এই শিল্পের কাজ চলছে। সেতুর পিলারের দেওয়ালে কোথাও আঁকা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তো কোথাও আবার আঁকা হয়েছে ফুল, মুখোশ, ভিক্টোরিয়া, দুর্গা ঠাকুর, কাশ ফুল, পাখি, হাওড়া ব্রিজ, কলকাতার টানা রিক্সা। কোনও পিলারের দেওয়ালে আবার আঁকা হচ্ছে বেলুড় মঠ ও দক্ষিণেশ্বরের ছবি। বঙ্কিম সেতুর পিলারে ছবি আঁকা আর্ট কলেজের এক ছাত্রী অমৃতা মান্না বলেন, ‘‘হাওড়া পুরসভার কমিশনারের তরফে আমাদের পিলারে এই ছবিগুলি ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পথচারীদের কাছে আমাদের অনুরোধ, সেতুর পিলারে পানের পিক ফেলে পিলারগুলিকে নষ্ট করবেন না।’’

আরেক ছাত্র সৌরিন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বঙ্কিম সেতুতে এরকম শিল্পকর্ম করে একে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। আগামীদিনে এটি অনেক খ্যাতি পাবে। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ এই সেতুকে যেন নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনের মধ্যে রাখা হয়।’’ হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর কাঠামোকে সারিয়ে তুলে একে বাঁচাতেই এরকম উদ্যোগ। কালীপুজোর আগেই এই কাজ শেষ করা হবে।

এই প্রসঙ্গে হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার তথা বিশেষজ্ঞ অলোক চৌধুরি বলেন, ‘‘বছরের পর বছর সেতুর পিলারে পানের পিক ফেলে একদিকে যেমন নোংরা করা হয়েছে। তেমন অপরদিকে এই পানের পিক ঘষে তুলতে গিয়ে সেতুর পিলারের সিমেন্ট-বালি খসে পিলারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কারণ, পানের পিক সহজে ওঠে না। এতে সেতুর অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেতুকে সেই ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ও এর আয়ু বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতির উপর একদিকে যেমন কেউ পানের পিক ফেলতে পারবে না। যার ফলে সেতুর সৌন্দর্যায়ন বজায় থাকবে, তেমন অপরদিকে পিলারে নতুন রঙ হলে সেতু আরও মজবুত হবে এর আয়ূ অনেক বাড়বে।’’

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language