সরকারি দপ্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণ দেখিয়ে বছরের পর বছর পেনশন আটকে রাখা যায় না। এমনই পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৬ বছর ধরে পেনশন আটকে থাকা বৃদ্ধার অবিলম্বে পেনশন চালু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের বিলম্বের জন্য বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ-সহ বকেয়া পেনশন দ্রুত মেটানোর জন্য বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র রাজ্য সরকারকে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল। তবে নির্দেশই সার। এখনও পর্যন্ত চালু হয়নি পেনশন। তাই এবার আদালত অবমাননার অভিযোগে ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ বৃদ্ধা।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধীনে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে কর্মরত ছিলেন চিকিৎসক তরুণ কুমার ঘোষ। ২০১০ সালে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি মারা যান। মামলাকারী তরুণ বাবুর স্ত্রী সোমা ঘোষের অভিযোগ, ২০১০ সাল থেকে তাঁর পেনশনের আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পড়ে থাকলেও দীর্ঘ ১৬ বছরেও পেনশন চালুর ব্যবস্থা হয়নি। মামলায় রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়, পেনশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু সালবনির সিএসএএইচএফ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি রাজ্যের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো বাকি।
কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই বিলম্ব ইচ্ছাকৃত নয়। তবে দীর্ঘ ১৬ বছর পেনশন না পাওয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টিকেই তুলে ধরেন আবেদনকারী। তার প্রেক্ষিতে আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে পাঠানোর কথা ছিল। তারপর পেনশন চালু করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মতো সেই সমস্ত নথি পাঠানো হয়ে গিয়েছে বলেও জানান এজি। কিন্তু তারপরও কোন অজ্ঞাত কারণে পেনশন আটকে রয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ বৃদ্ধা।