এবার সান্দাকফুর গেটওয়েতে ক্যামেরাবন্দি কালো চিতাবাঘ অর্থাৎ ম্যালানিস্টিক লেপার্ড! মানেভঞ্জন ফরেস্ট ডিভিশন এলাকায় শনিবার সকালে ওই প্রাণীটিকে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়। ওই ছবি প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে শোরগোল। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। বনদপ্তরের কর্তারা অবশ্য ওই বিষয়ে মুখ খোলেননি। গত বছর মানেভঞ্জন–সুখিয়াপোখরি রোডে কালো চিতাবাঘের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন এক গাড়িচালক।
বনদপ্তরের এক কর্মী জানান, মানেভঞ্জনের জঙ্গলে সম্ভবত শিকারের খোঁজে চিতাবাঘটি ঘোরাঘুরি করছিল। এর আগে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শৈলশহরের চিত্রে বাজারের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় একটি পূর্ণবয়স্ক কালো চিতাবাঘ পথচারীদের নজর কাড়ে। এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে মিরিকে দেখা মেলে কালো চিতাবাঘ। এর আগে ২০২০ সালে মিরিকের ওকাইতি চা বাগানের নয় নম্বর ডিভিশনের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় কালো চিতাবাঘের দেখা মেলে। ২০২২ সালে মানেভঞ্জন সংলগ্ন এলাকা থেকে কালো চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার হয়। দার্জিলিংয়ের ধোত্রে-শিলিগুড়ি রোডেও মৃত কালো চিতাবাঘ উদ্ধার হয়েছিল।
এছাড়াও কার্শিয়াং বন বিভাগের চিমনি থেকে বাগোরা যাওয়ার রাস্তায় কালো চিতাবাঘ দেখেন এক গাড়ি চালক। তিনি বুনোটিকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা বন্দি করেন। এরপর সেই ছবি একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কার্শিয়াং থেকে চার কিলোমিটার দূরে চিমনি এলাকাতেও রাস্তা পারাপারের সময় কালোচিতার দেখা মেলে। দার্জিলিং, মিরিক, মানেভঞ্জনেও কালোচিতার গতিবিধি ধরা পড়েছে। এই প্রাণীটি ঘন জঙ্গলে থাকে না। সাধারণত লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকায় দেখা যায়। বনদপ্তরের কর্তারা জানান, কালো চিতাবাঘকে অনেকেই ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ভেবে ভুল করেন।
আদতে জেনেটিক কারণে চিতাবাঘের শরীরে কালো রঙের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি মেলানিস্টিক রঙের সাধারণ চিতাবাঘ। দার্জিলিংয়ে এই ধরনের চিতাবাঘের দেখা মেলা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, এই অঞ্চলে ওই প্রাণীদের আবাসস্থল রয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ে কালো চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ওই বুনোদের গতিবিধি জানতে বিভিন্ন জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গ্রামবাসী ও হোম স্টে মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
