সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ইরানের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে সদ্য। সেখানে প্রতিরক্ষা চুক্তিও হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে হওয়া এই বৈঠকে পাকিস্তানের তরফে উপস্থিত ছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অথচ সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালেদ বিন সলমন এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন ছিলেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কিন্তু পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খাজা আসিফ বসেছিলেন দেশের পার্লামেন্টে! এই নিয়ে তাঁকে বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হল। যা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, আসিম মুনিরই আসলে দেশটা চালাচ্ছেন!
জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল প্রধান মওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। তিনি প্রায়ই সরকারের নানা নীতি, পদক্ষেপ ইত্যাদি প্রসঙ্গে তোপ দাগেন। এবার পাক পার্লামেন্টেই তিনি এই প্রসঙ্গে বললেন, ”ইরানে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করা হচ্ছে। অথচ আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানেই রয়েছেন।” এরপর তিনি ব্যাঙ্গ করে বলেন, ”একটুও কি লজ্জা নেই?” যা শুনে কক্ষে বিরোধীদের হাসির ঢেউ খেলে যায়।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনার আধিপত্য নতুন কিছু নয়। বর্তমানে সময়ে দেশটিতে অলিখিতভাবে সেনা শাসনই চলছে। আসিম মুনিরেরই পুতুল সরকার হিসেবে এখানে কাজ করেন শাহবাজ শরিফ। এর আগেও বিদেশমন্ত্রীর পরিবর্তে বিদেশ সফরে আসিম মুনিরকেই গুরুত্ব পেতে দেখা গিয়েছে। এবারও এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেখা গেল তাঁকেই। যা ফের পাক সেনারই আধিপত্যকে তুলে ধরল নতুন করে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠতে পারে এই আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। তার আগে এই বৈঠককে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা করলে ইরানকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বাকি দেশগুলি কীভাবে সাহায্য করে সেটাই এখন দেখার।
