Hashtagintro

বাঁকুড়ায় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত কিশোর, অসহায় পরিবারের পাশে গোটা গ্রাম, আর্থিক সাহায্যের আবেদন

মাথার উপরে পাকা ছাদ নেই। ত্রিপলের ছাউনিতে কোনওরকমে দিন কাটে পরিবারের। সেই ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’ সংসারে এখন আরও বড় দুশ্চিন্তা ১১ বছর বয়সী ছোট্ট সদস্যকে নিয়ে। রাজ বাউরি নামে ওই কিশোর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। চিকিৎসা চলছে কল্যাণী এইমসে। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে কার্যত দিশাহারা বাবা দয়াময় বাউরি। নাতিকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর আশায় পথে নেমেছেন দাদু-ঠাকুমাও। এই অবস্থায় রাজের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন গ্রামের মানুষজন। এলাকার যুবক-যুবতীরাও অর্থ জোগাড় করতে এগিয়ে এসেছেন।

বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের লাগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজের বয়স মাত্র ১১ বছর। যে বয়সে স্কুলের পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর ছোট ছোট স্বপ্নে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই কঠিন অসুখের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তাকে। ছেলের চিকিৎসার জন্য দয়াময় বাউরির কাছে এখন প্রতিটি দিনই নতুন পরীক্ষা। একদিকে সংসারের অভাব, অন্যদিকে সন্তানের চিকিৎসার চিন্তা। ত্রিপলের ছাউনির ছোট্ট বাড়িতে দিন কাটানো পরিবারটির কাছে চিকিৎসার খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

Teenager from Bankura diagnosed with a brain tumour, entire village rallies behind his family
আর্থিক দুরবস্থা। এই বাড়িতেই থাকে বাউরি পরিবার। নিজস্ব চিত্র

দয়াময়ের কথায়, “ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনাই এখন একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু যা আর্থিক অবস্থা, তাতে চিকিৎসার খরচ চালানো খুবই কঠিন। মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। সকলে পাশে দাঁড়ালে হয়তো ছেলের চিকিৎসাটা চালিয়ে যেতে পারব।” পরিবারের এই পরিস্থিতির কথা জানার পরেই উদ্যোগী হয়েছেন গ্রামের কয়েকজন যুবক-যুবতী। বাড়ি বাড়ি ঘুরে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা। গ্রামের মানুষজনও ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। সকলের একটাই লক্ষ্য, অর্থের অভাবে যেন রাজের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

উদ্যোগীদের বক্তব্য, গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সহৃদয় ব্যক্তিরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে এই লড়াই কিছুটা সহজ হতে পারে। সেই আশাতেই চলছে অর্থ সংগ্রহ ও প্রচার। রাজের চিকিৎসার মোট ব্যয়, চিকিৎসকদের পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং এখনও পর্যন্ত কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে সন্তানের চিকিৎসা যাতে অর্থের অভাবে থমকে না যায়, সেই আশাতেই মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছচ্ছেন দয়াময় বাউরি। পাশে রয়েছেন রাজের দাদু-ঠাকুমা এবং গ্রামের যুবক-যুবতীরা। রাজের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদনও জানানো হচ্ছে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language