‘বিদেশি সাহায্যে’ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিযোগ করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার বিরোধী দলনেতাকে পালটা জবাব দিল গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, বিদেশ সফরে দিয়ে রাহুলই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস সাংসদকে ‘প্রতারক’ এবং ‘ভণ্ড’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।
বিজেপি মুখপাত্র সিআর কেশবন বলেন, “রাহুল এমনই এক প্রতারক যে, তাঁর নিম্নরুচির মিথ্যাগুলি সবসময় তাঁর বিরুদ্ধেই যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে অপমানিতও হতে হয়।” ২০২৩ সালের মার্চে ব্রিটেনে রাহুলের করা বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন কেশবন। ব্রিটেনে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস সাংসদ ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলেন। একটি পোস্টে বিজেপি নেতা লেখেন, ‘২০২৩ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে লন্ডনে বক্তৃতা করার সময় রাহুল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এটি কেবল ভারতের লড়াই নয়।’
লন্ডনে রাহুলের সেই বক্তৃতার ভিডিও শেয়ার করেছেন কেশবন। সেখানে কংগ্রেস সাংসদকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের গণতন্ত্রের অবক্ষয়ে পশ্চিমা দেশগুলি কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না। আশ্চর্যের বিষয় হল, গণতন্ত্রের তথাকথিত রক্ষক – অর্থাৎ ব্রিটেন ও ইউরোপীয় দেশগুলি যেন বুঝতেই পারছে না যে, ভারতে গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে।” রাহুল বলেন, “এই লড়াই কেবল ভারতের নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর লড়াই।”
প্রসঙ্গত, গত গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শক্তি ক্রমাগত দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। রাহুলের বিদেশ সফরের দিকে ইঙ্গিত করে মোদি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশে গোপনে কার সঙ্গে কার বৈঠক হচ্ছে? ভারতবিরোধী শক্তিগুলি কাদের সমর্থন করছে? এরই জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে পালটা আক্রমণ শানান কংগ্রেস সাংসদ। দাবি করেন, বিদেশি সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদি। সে কারণেই তিনি এখনও ক্ষমতায় টিকে আছেন।