দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে এইমস নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। ছাব্বিশের ভোটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বিজেপি জানিয়েছিল, রায়গঞ্জে এইমস হবে। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে রায়গঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছাপূরণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঠিক করেছে রায়গঞ্জের দিকনগরে এইমস তৈরি হবে। কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সব কাজ হলে গেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দিকনগরে ভূমি পুজো অনুষ্ঠানে আসব।” তাঁর এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া রায়গঞ্জে। বিশেষত আশাবাদী প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি দীপা। জানালেন, “আমাদের কোনও প্রয়োজন হলে আমরা সবসময়ই আছি।” কারণ, রায়গঞ্জের এইমস প্রিয়রঞ্জনেরই স্বপ্নের প্রকল্প ছিল।
দীপা দাশমুন্সি জানান, “২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল যে রায়গঞ্জে এইমস হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার জমি দেয়নি বলেই তা হয়নি। অথচ ওখানকার মানুষ তৈরি ছিলেন জমি দিতে। তখন ঠিক হয়, এটা কল্যাণীতে হবে। রাজ্য সরকার তো এইমস করতে পারবে না, করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। রাজ্য জমি দিতে পারবে শুধু। এখন চাইব, শুধু ঘোষণা নয়, মানুষের দাবি এটা, তা পূরণ হোক। আমাদের কোনও প্রয়োজন হলে আমরা সবসময়ই আছি।”
জাতীয় রাজনীতিতে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির অবদানের কথা সর্বজনবিদিত। এ বিষয়ে যত বলা যায়, ততই যেন কম। দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করা প্রিয়র জীবনের শেষ কয়েকটা বছর অবশ্য বেশ কষ্টেই কেটেছিল। অসুস্থ নেতা বহুদিন ছিলেন কোমায়। ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রিয়রঞ্জন বরাবর সচেষ্ট ছিলেন। রায়গঞ্জে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটা এইমস হোক, চেয়েছিলেন তিনি। তবে নানা জটিলতার কারণে তাঁর সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর প্রিয়রঞ্জনের সেই ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, রায়গঞ্জের দিকনগরে তৈরি হবে এইমস।
এনিয়ে প্রিয়রঞ্জনের পত্নী তথা কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি ‘সংবাদ প্রতিদিন’কে জানালেন, “এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। আজই জেলা কংগ্রেসের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে মেমোরেন্ডাম দেওয়া হয়েছে। আমরা জানতাম না, এটা নিয়ে আজকেই কোনও কিছু ঘোষণা হবে।” তিনি আরও জানান, “২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল যে রায়গঞ্জে এইমস হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার জমি দেয়নি বলেই তা হয়নি। অথচ ওখানকার মানুষ তৈরি ছিলেন জমি দিতে। তখন ঠিক হয়, এটা কল্যাণীতে হবে। রাজ্য সরকার তো এইমস করতে পারবে না, করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। রাজ্য জমি দিতে পারবে শুধু। এখন চাইব, শুধু ঘোষণা নয়, মানুষের দাবি এটা, তা পূরণ হোক। আমাদের কোনও প্রয়োজন হলে আমরা সবসময়ই আছি।”
