ঝগড়ার মাঝে ভয়ংকর ঘটনা! প্রকাশ্যে তরুণীর পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে দিল যুবক! রক্তে ভেজা ও গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলাকারী যুবককে গণধোলাইয়ের পর তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। পুলিশি জেরায় যুবকের দাবি, আক্রান্ত তরুণী তাঁর স্ত্রী। দিন দুই আগে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীরামপুর স্টেশন লাগোয়া গান্ধী ময়দানে। কী কারণে আচমকা এই হামলা এবং ওই যুবক-যুবতীর মধ্যে ঠিক কী সম্পর্ক, তাঁরা আদৌ দম্পতি নাকি প্রেমিক-প্রেমিকা, সেসব খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে আরএমএস মাঠের গ্যালারিতে বসে কথা বলছিলেন ওই যুবক ও যুবতী। হঠাৎই তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। আচমকা যুবতী চিৎকার করে ওঠেন। তা শুনে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ছুটে যান। তাঁরা দেখতে পান, যুবতীর পেটে কাঁচি ঢোকানো রয়েছে, রক্তে ভিজে যাচ্ছে মাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি গিয়ে যুবকটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গিয়ে আরেকজনও জখম হন। এরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত যুবক রিষড়ার চম্পা রোড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন দাবি করে, আক্রান্ত যুবতী তার স্ত্রী। তারা একসঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। তবে কী কারণে এই আক্রমণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শ্রীরামপুরের বিখ্যাত আরএমএস বা গান্ধী ময়দানে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসী প্রবল আতঙ্কিত। এখানে প্রায়শয়ই অসামাজিক কাজকর্ম হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর সাহার কথায়, “গত দশ বছর ধরে পুরসভাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। মাঠের গ্যালারিটি খেলা দেখার জন্য করা হয়েছিল, কিন্তু এখানে কোনও খেলা হয় না। গ্যালারির আড়ালে নিয়মিত নেশার ঠেক ও অশালীন কার্যকলাপ চলে, যা সাধারণ মানুষ ও প্রবীণদের চলাচলের অযোগ্য করে তুলেছে। তিন ধাপের এই গ্যালারি ভেঙে শুধু এক লাইনের চেয়ার বসিয়ে দিলে এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা অনেকাংশে কমবে।”
