Hashtagintro

প্রশাসনে ‘শুদ্ধিকরণ’ জিনপিঙের, এক ধাক্কায় বহিষ্কৃত বহু শীর্ষ আধিকারিক, বিরোধী স্বর দমনের চেষ্টা?

প্রশাসন এবং সামরিক নেতৃত্বে ফের বড়সড় রদবদল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের। এক ধাক্কায় বহিষ্কৃত ৩৩ জন শীর্ষ আধিকারিক। দল ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুর্নীতি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযান চালাচ্ছিলেন জিনপিং। সামরিক বাহিনীও তার বাইরে ছিল না। সূত্রের দাবি, সেই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানের অংশ হিসাবেই ৩৩ জন আধিকারিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের আবার দাবি, এর মাধ্যমে আসলে বিরোধী স্বর দমন করছেন চিনা প্রেসিডেন্ট।

গত তিন ধরে রাজধানী বেজিঙে কমিউনিস্ট পার্টির পঞ্চম প্লেনাম (অধিবেশন) বসেছিল। বৃহস্পতিবার তা শেষ হয়েছে। সেখানেই ৩৩ আধিকারিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুষ্ঠিনক ভাবে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছ। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য মা শিংরুই এবং সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন শীর্ষ নেতা ঝাং ইউশিয়া। এখানেই শেষ নয়। বহিষ্কৃত কর্তাদের তালিকায় রয়েছেন চিনের সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা লিউ ঝেনলি, প্রাক্তন কূটনীতিক লিউ জিয়ানচাও, প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী জিন ঝুয়াংলং এবং চিনের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ই হুইমান। এছাড়া চিনের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান লি ইউনঝেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জিনপিঙের ঘনিষ্ঠ ঝং শাওজুনের অপসারণ। ২০০২ সালের শেষ দিকে জিনপিং যখন ঝেজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই ঝং তাঁর সচিব হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাংহাই ও বেইজিংয়েও তাঁর সঙ্গী ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন এবং ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে’র (সিএমসি) জেনারেল অফিসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সেই বিশ্বস্ত সহযোগীকেও ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

চিনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন উচ্চপদস্থ দলীয় ও সরকারি কর্তা এবং ১৬ জন সামরিক কর্মকর্তা। গত বছর কমিউনিস্ট পার্টির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পর পদ থেকে সরানো হয়েছিল ১৪ জনকে। কিন্তু এবার সংখ্যাটা দ্বিগুণেরও বেশি। শুধু তাই নয়, চিনের সামরিক বাহিনীতে বহু দিন আগেই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান শুরু করেছিলেন জিনপিঙ। কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসন এবং সরকারেও সক্রিয় ভাবে ‘সাফাই’ অভিযান শুরু করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট।

আসলে বহু বছর ধরেই জিনপিঙের একনায়কতন্ত্রে ক্ষুব্ধ চিনের জনগণের একটা বড় অংশ। তার মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী এবং খোদ সরকারেরও একটা অংশ। তাই সব মিলিয়ে গদি হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, পুরনো সেনা অফিসার এবং প্রশাসনের শীর্ষ অধিকারিকদের ইচ্ছাকৃতভাবেই পদ থেকে অপসারণ করছেন জিনপিং। যাতে ক্ষমতার কাঠামোয় তার কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন সংঘাতে যাঁরা চিনের সামরিক শক্তির মুখ ছিলেন, তাঁরাও জিনপিঙের কোপের বাইরে নন। বিপদ বুঝলেই নানা অছিলায় তিনি আধিকারিকদের সরিয়ে দিচ্ছেন।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language