চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার মাঝেই ফের সংঘাতে জড়িয়েছে আমেরিকা ও ইরান (US-Iran Conflict)। হামলা হয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপে। তবে পালটা জবাব দিতেও কোনও খামতি রাখেনি ইরান। জানা যাচ্ছে, আমেরিকার দুটি ড্রোন ভূপতিত হয়েছে ইরানে। আইআরজিসির তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা থেকে উড়ে যাওয়ার সময় ওই ড্রোন দুটি গুলি করে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজের নিষিদ্ধ অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের পেতে রাখা মাইনের কবলে পড়েছে ৩টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার।
আইআরজির বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আমেরিকার দুটি লুকাস ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। দক্ষিণ উপকূলে বন্দর খামির এলাকায় ড্রোন দুটি গুলি করে নামানো হয়। এই বন্দর খামির ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। হরমুজের উপর নজরদারি চালাতে কৌশলগতভাবে এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই ট্যাঙ্কার গুলি ইরানের চোখকে ফাঁকি দিতে অননুমোদিত পথ ধরে যাতায়াত করছিল। তখনই এই ঘটনা ঘটে।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা থেকে উড়ে যাওয়ার সময় ওই ড্রোন দুটি গুলি করে নামানো হয়েছে।
এদিকে ড্রোন ভূপতিত হওয়া ও ট্যাঙ্কারে মাইন হানার ঘটনায় নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গোটা পরিস্থিতি আরও খারাপে দিকে যেতে পারে। এই অবস্থায় আঞ্চলিক দেশগুলি চাইছে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসুক দুই দেশ। খুলুক হরমুজের তালা। কাতারের বিদেশমন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার রাতে তেহরানে যাওয়া মধ্যস্থতাকারী দলটি দোহায় ফিরে এসেছে। তবে, দলটি ফিরে আসার পরেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক ও উপসাগরীয় দেশগুলো উত্তেজনা বৃদ্ধির বিরোধিতায় একমত। উভয় পক্ষ এখন প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করছে।
বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি শান্তি আলোচনার জন্য ইরানকে চিঠি দিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে চিঠিটি দিয়েছেন ট্রাম্পের ডেপুটি জেডি ভ্যান্স। গত শনিবার মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে ভ্যান্সের চিঠিটি রেজাইয়ের কাছে পৌঁছয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে তেহরানকে সরাসরি বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলোচনার প্রধান বিষয় হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সূত্রের খবর, চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনও শান্তি শর্তের পরিবর্তে আলোচনার একটি ‘কাঠামো’ তুলে ধরা হয়েছে। এরইমাঝে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়া।
