শীতের রাত। বাইরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। গায়ে লেপ বা কম্বল চাপিয়ে শুয়েছেন। অথচ কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, কম্বলের বাইরে বেরিয়ে রয়েছে দুটো পা! আবার অনেকে আছেন, যাঁদের পায়ের পাতা বাইরে না রাখলে ঘুমই আসতে চায় না। চারপাশে ঠান্ডা, অথচ নিজের শরীরের একটা অংশকে ঠান্ডার মুখে ঠেলে দিয়েই যেন আরাম খুঁজে পান তাঁরা। কেন এমন হয়? নিছক অভ্যাস, নাকি এর পিছনে রয়েছে শরীরের কোনও বিশেষ কৌশল?

আসলে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঘুমের আগে আমাদের শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা বা ‘কোর বডি টেম্পারেচার’ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ঘুমের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই তাপমাত্রা হ্রাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কাজে হাতের তালু ও পায়ের পাতার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
পায়ের পাতাই কেন?
হাতের তালু ও পায়ের পাতায় বিশেষ ধরনের রক্তনালি থাকে। এগুলির মাধ্যমে শরীরের ভিতরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। শরীর যখন তাপ বের করে দিতে চায়, তখন এই রক্তনালিগুলি প্রসারিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ভ্যাসোডাইলেশন’। ফলে পায়ের পাতা কম্বলের বাইরে রাখলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এতে শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা কমতে সাহায্য করে। ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও হয় সহজ।
কম্বলের ভিতরে অস্বস্তি কেন?
কম্বলের ভিতরে শরীরের তাপ আটকে থাকে। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম লাগতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের শরীর সহজেই গরম হয়ে যায়, তাঁদের ঘুমের সময় পা বাইরে রাখলে স্বস্তি মেলে। শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়। তাই পা বাইরে রাখার প্রবণতা সব সময় ঠান্ডা সহ্য করার অদ্ভুত অভ্যাস নয়, বরং আরামদায়ক তাপমাত্রা খুঁজে নেওয়ার একটি স্বাভাবিক উপায়।

এই অভ্যাস কি ক্ষতিকর?
সাধারণত নয়। পা বাইরে রাখলে যদি আরাম লাগে এবং ঠান্ডা না লাগে, তা হলে চিন্তার কারণ নেই। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডায় পা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখলে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পায়ের রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পা ঠান্ডায় জমে গেলে বা অসাড় হয়ে এলে অবশ্যই ঢেকে রাখা উচিত।
আসলে ঘুমের সময় শরীর শুধু বিশ্রাম নেয় না, নিজের তাপমাত্রার ভারসাম্যও বজায় রাখে। তাই শীতের রাতে কম্বলের বাইরে বেরিয়ে থাকা দুটো পা অনেক সময় শরীরের সেই স্বাভাবিক ব্যবস্থারই প্রকাশ। ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই নয়, বরং ঘুমের জন্য শরীরের পছন্দসই তাপমাত্রা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা!
