উত্তরাখণ্ডের কেদারতাল এলাকায় পর্বতারোহণে (ট্রেকিং) গিয়ে তুষারঝ়ড়ের নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা-সহ মোট আট জন! গত পাঁচদিন ধরে নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। মঙ্গলবার উদ্ধার হয়েছে দুই অভিযাত্রীর মৃতদেহ।
উত্তরাখণ্ড পুলিশের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (এনআইএম)-এর উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে দুর্গম ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিন উত্তরকাশী জেলা প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ জানিয়েছে, যৌথ উদ্ধারকারী দল তুষারধসের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এক মহিলা ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাঁরা বাঁকুড়ার পাঁচ জনের কেউ? সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার বিকেল তিনটে নাগাদ দিনের অভিযান শেষে করে বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছে উদ্ধারকারী দল। আগামিকাল সকালে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে গতকাল জানানো হয়েছিল, নিখোঁজ বাংলার পাঁচ পর্যটকের নাম তাপস বাউড়ি, রতন ঘোষ, মনোজ খোভাস, রিন্টু মণ্ডল ও উদয় ঘোষ। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের বর্তিকা বর্মা ও উত্তর কাশীরই বাসিন্দা সিদ্ধার্থ রানা নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও একজন গাইডেরও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ২৩ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর কেউ তুষারপাতে নিখোঁজ হয়েছেন কিনা, খোঁজ করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ অক্টোবর এই দলটি গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের দিকে রওনা হয়েছিল। সেসময় আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল। দলটিতে মোট ১২ জন ছিল। সাতজন অভিযাত্রী, একজন গাইড, একজন রাঁধুনি এবং তিনজন পোর্টার। পথে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারজন নিরাপদে ফিরে এলেও আটজন তুষারধসে আটকে যান। ২৯ তারিখ আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হয়। আচমকাই তুষারঝড় শুরু হয়েছিল। পাহাড় বেয়ে নেমে আসে তুষারধস।
জানা গিয়েছে, ট্রেকিংরুটের মাঝপথেই তাঁরা আটকে পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার কথা জানার পরেই উদ্ধারকাজের জন্য রওনা হয় বিশেষ দল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ সেভাবে শুরু করা যায়নি। এরপর হেলিকপ্টার নিয়ে যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল।
