গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুন মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তার পরিবার। অভিযুক্তের মায়ের দাবি, তাঁর ছেলে সত্যিই অপরাধ করে থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারত। কিন্তু এভাবে এনকাউন্টারে তাকে মেরে ফেলা উচিত হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান। প্রহ্লাদের মা আরও জানান, পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখত ছেলে। মন শান্ত রাখতে নিয়মিত গীতা পাঠ করত।
অভিযুক্তের মা রেখা দাসের দাবি, এনকাউন্টারের আগে প্রহ্লাদকে রাতে যখন বাড়িতে আনা হয়েছিল তখন তার হাত বাঁধা ছিল। তাকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। সেই অবস্থায় কীভাবে সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালাতে পারল! ও যে এমন অপরাধ করতে পারে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না পরিবার। কাঁদতে কাঁদতে মা রেখা দাস আরও বলেন, ছেলের পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তার প্রস্তুতিও নিয়েছিল সে ৷ ভালো এনসিসিও করত ৷ ছেলে বলত, বাড়ি তৈরি করার পরে বিয়ে করবে ৷ মন শান্ত রাখতে গীতা পাঠও করত ৷ পুলিশ অফিসারদের দেখে সে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করত ৷ সেই মানুষ কীভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পারে সেই প্রশ্নই তোলেন নিহতের মা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে প্রহ্লাদ ৷ কিন্তু মায়ের অসুস্থতা ও সাংসারিক অনটনের কারণে পড়াশোনা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। তার স্বপ্ন ছিল একটি বাড়ি করার ৷ এলাকার কোনও ঝামেলা অশান্তির মধ্যে সে থাকত না। এক প্রতিবেশীর কথায়, নির্ঝঞ্ঝাট ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিল প্রহ্লাদ। সে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে রাত দশটা নাগাদ প্রহ্লাদের মৃতদেহ বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরাসরি মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গোবরডাঙার শ্মশানে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বাবা-মা-সহ মোট ১৫ জনের উপস্থিতিতে তার দেহ দাহ করা হয়। বুধবার সকালে মৃত প্রহ্লাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা রামপ্রসাদ দাস শ্রাদ্ধের আগের ক্রিয়া কর্ম করছেন। বাড়িতে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনরা ৷ অঝোরে কেঁদে চলেছেন মা।
