ভোটচুরি, এসআইআর এইসব অজুহাত! ভারতবর্ষকে দুর্বল করতে আন্তর্জাতিক শক্তির হাতে খেলতে নেমেছে ‘পাপ্পু’ আর কিছু স্থানীয় দল। মঙ্গলবার বর্ধমানের রবীন্দ্রভবনে দলীয় এক কর্মসূচিতে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী আন্দোলনকে নিশানা করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এই প্রেক্ষিতে যুব সমাজকে আরও বেশি করে বিজেপিতে সম্পৃক্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, যুব সমাজের হাতেই আগামী দিনের উন্নয়ন নির্ভর করবে। তারা যদি দেশের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা যদি রাষ্ট্রবাদের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা যদি ভারতে পক্ষে দাঁড়ায় তাহলে পৃথিবীর কোনও শক্তি নেই আমাদেরকে অস্থির করে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে এনআরসি, সিএএ-এর নামে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল। এবারের প্রেক্ষিতটা আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারতের যে উন্নয়ন করছেন তা সহ্য হচ্ছে না কিছু আন্তর্জাতিক শক্তির। তারা চাইছে এবার ভারতকে অস্থির করতে। ভারতের উন্নয়নকে আটকে দিতে।
এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতা নামক পাপটাকে আমরা সরাতে পেরেছি তখন সারা দেশজুড়ে রে রে পড়ে গিয়েছে ভোটচুরি করেছে বলে। ভোটচুরি তো সিপিএম, তৃণমূলের সংস্কৃতি ছিল। তৃণমূল আমলের পঞ্চায়েত, পুরভোট, ২১ এর বিধানসভা ভোটে ভোটচুরি হয়েছিল। আর জ্ঞানেশ কুমার এবারের বিধানসভা নির্বাচন নিরপেক্ষ ভাবে করিয়েছে। আর যে বা যারা ইমপিচমেন্টের কথা বলছে তাঁদের প্রতি আমরা বিজেপি কার্যকর্তারা বলতে চাই ওয়াক থু। স্বচ্ছ নির্বাচন করানোর জন্য আমরা কমিশনকে ১০ এ ১০ দেব।” তিনি জানান, ভূতের বদলে প্রকৃত ভোটারের নির্বাচন করানোর ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। তার উপর অনাস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। উত্তর প্রদেশে নির্বাচন আছে। সেখানে আবার বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা আবার গর্তে ঢুকে যাবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ইউপিএ জমানার ১০ বছরের শাসনকালে দেশ যখন পিছিয়ে পড়ছে তখন ২০১৪ সালে নতুন অবতারে এসেছিলেন। আশা, প্রত্যাশা নিয়ে নবীন সমাজ বিজেপিকে বেছে নিয়েছিল। পর পর তিনটি নির্বাচন জিতে ভারতের মর্যাদা কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, ওরা নেপাল থেকে বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্স থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের মতো কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে অবিশ্বাস তৈরি করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে সমাজে। তারপর বলবে রেজিম চেঞ্জ করে দাও। ভোটে যখন হারাতে পারবে না তখন সমাজকে অস্থির করে তোলার খেলায় মেতেছে।
তিনি আরও জানান, গত ১২ বছরে, লোকসভা, বিধানসভা, বড় পুরসভার মতো ভোটে কংগ্রেস ১০০-এর বেশি নির্বাচনে হেরেছে। মোকাবিলা করতে পারছে না বিরোধীরা। মন্ত্রী বলেন, “আগামী ৩-৪টি নির্বাচনে আমাদের হারানোর ক্ষমতা রাহুল গান্ধী নামক পাপ্পুর কর্ম নয়। বিরোধীরা যখন বুঝছে ভোটে বিজেপিকে হারাতে পারবো না। সম্প্রতি একজন কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরতে না পেরে সোজা ছুটছেন রামলীলা ময়দানে। কিন্তু তাঁর লীলা সাঙ্গ হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদশক পদ্মফুল, নরেন্দ্র মোদীর বিজয়গাথা ছুটবে দেশে।” তা বুঝতে পেরেই দেশকে অস্থির করার খেলায় হতাশ বিরোধীরা নেমেছে বলে অভিযোগ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রশান্ত ভূষণকে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, ”দেশকে অস্থির করার নকশা লুকিয়ে রাখতে পারছেন না। প্রশান্ত ভূষণ বলছেন রেজিম চেঞ্জ করাটাই তাঁদের লক্ষ্য। এক নেত্রী বলছেন, আমরা উৎসাহ পাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে।”
এদিন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে এনআরসি, সিএএ-এর নামে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল। এবারের প্রেক্ষিতটা আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারতের যে উন্নয়ন করছেন তা সহ্য হচ্ছে না কিছু আন্তর্জাতিক শক্তির। তারা চাইছে এবার ভারতকে অস্থির করতে। ভারতের উন্নয়নকে আটকে দিতে। সুন্দর, গরীব মুক্ত ভারত, বিশাল অর্থনৈতিক বাজারের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তারা। ভারতের মাটি শক্তমাটি দেশকে অস্থির করার স্বপ্ন সফল হবে না। তিনি বলেন, “২৭ এ জিতব, ২৮ এ জিতব ২৯ এ নরেন্দ্র মোদি আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।”
ভোটচুরি ও এসআইআর ইস্যুতেও বিরোধীদের নিশানা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওরা বলছে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা কী বলতাম ভোটার লিস্ট থেকে অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে। স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে। জ্ঞানেশ কুমার যখন সেই কাজ করলেন তখন আপনার গায়ে লাগছে কেন? জ্ঞানেশকুমার ভোটার লিস্ট থেকে বুথ থেকে ভুত তাড়িয়েছেন।” তিনি আরও জানান, কেরলে পাঞ্জাবে বিরোধীরা জিতেছে। যে পাপ্পু আজ অস্থিরতা করেছে তাদের কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বলেছে নির্বাচন কমিশন এসআইআরটা ঠিক করেছিল বলে সেখান থেকে সিপিএমকে সরাতে পেরেছে।