ইডির আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। হাই কোর্টে জামিন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন সুজিত। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে ইডিকে নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত। তাদের বক্তব্য জানতে চাইলেন বিচারপতিরা। ফলে কালীপুজোর আগে সুজিতের জেলমুক্তি হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল না।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভাড়ালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলটি ওঠে। সেই শুনানিতেই সওয়াল-জবাবের পর ইডিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইনীজীবী মহলের ব্যাখা, সেই জবাব পাওয়ার পরই সুজিতের জামিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত।
গত মে মাসে রাজ্যে পালাবদলের পরই সুজিত বসুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। তার আগেই অবশ্য পুরসভা ও শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুতর মামলার দায়িত্বভার পেয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। গত ১২ মে গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত বসুকে। সেই থেকে তিনি জেলবন্দি। শুধু পুরনিয়োগ দুর্নীতি নয়, তদন্তের গভীরে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে কার্যত কেউটে বের করেন তদন্তকারীরা। একাধিক আর্থিক দুর্নীতি, ছেলের রেস্তরাঁয় একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ ওঠে। সুজিত বসুকে নিয়ে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালান জায়গায় জায়গায়। এসবের জেরে বারবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়।
কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিতের জামিন আর্জি খারিজ করেন। ইডির আইনজীবীর দাবি ছিল, তাঁকে জামিন দিলে প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। তাতে তদন্তে অসুবিধা হবে। ইডির সেই সওয়াল শুনে বিচারপতি জামিন মঞ্জুর করেননি। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেই মামলার শুনানি হলেও মামলার নিষ্পত্তি হল না।